নিউজ ডেস্কঃ বাংলা টুডে
শ্রমিক পাঠাতে ২৫ বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এ তালিকা প্রকাশের পরই নতুন করে সিন্ডিকেট গঠনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দুই দলই এজেন্সি নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছে।
দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও খুলে দেওয়ার উদ্যোগের মধ্যেই ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম প্রকাশের ঘটনা সামনে এসেছে। গত শুক্রবার মালয়েশিয়া সরকারের অনলাইনভিত্তিক শ্রমিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) এ তালিকা প্রকাশ করে।
এর পর থেকেই এজেন্সি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল শনিবার রাতে এনসিপি এবং আজ রোববার জামায়াতে ইসলামী পৃথক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নির্দিষ্ট করে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আবারও সিন্ডিকেটভিত্তিক শ্রমবাজার তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দলের অভিযোগ, সরকারের একটি অসাধু চক্র এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
জামায়াত বলেছে, অতীতে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিয়ে সিন্ডিকেট গঠনের কারণে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। এতে হাজার হাজার কর্মী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এবারও একই ধরনের ব্যবস্থা হলে একজন কর্মীর মালয়েশিয়া যেতে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দলটি।
দেশে দুই হাজারের বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থাকার কথা উল্লেখ করে জামায়াত বলেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা না দিয়ে সব যোগ্য এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
দলটি আরও বলেছে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সদস্য এবং অভিজ্ঞ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকদের প্রতারণা, অতিরিক্ত ব্যয় ও শোষণ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
৪২৩ থেকে মাত্র ২৫—প্রশ্ন এনসিপির
এদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এনসিপি। তবে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের ঘটনায় দলটি জানতে চেয়েছে, কী প্রক্রিয়া ও মানদণ্ডে এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক বিবৃতিতে বলেন, মালয়েশিয়ার এফডব্লিউসিএমএস ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করলেও কোন প্রক্রিয়া, মানদণ্ড ও ভিত্তিতে এজেন্সিগুলো নির্বাচন করা হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এনসিপি জানায়, মালয়েশিয়া সরকারের নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ৪২৩টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা আগে দেশটির কাছে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। সেখান থেকে মাত্র ২৫টি এজেন্সি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ও কারণ সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।
পুরোনো সিন্ডিকেটের অভিজ্ঞতা নিয়ে শঙ্কা
এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল। সরকার নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকার বিপরীতে একজন কর্মীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল।
ফলে অনেক কর্মী বিদেশ যাওয়ার জন্য জমিজমা বিক্রি, সঞ্চয় শেষ করা কিংবা ঋণ করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করতে বাধ্য হন। নতুন করে সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একই ধরনের ব্যবস্থা তৈরি হলে এবারও কর্মপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করছে দলটি।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ বন্ধ করতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগের মধ্যেই বিতর্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান। ওই সফরে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে শ্রমিক পাঠানোর শুরুতেই মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াত ও এনসিপি উভয়েই অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোনোভাবেই যেন নতুন সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
দল দুটির বক্তব্য, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি লাখো কর্মপ্রত্যাশী মানুষের ভবিষ্যৎও এর সঙ্গে জড়িত। তাই এজেন্সি নির্বাচন থেকে শুরু করে কর্মী নিয়োগ ও বিদেশ পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।






