অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যাংকারের নতুন পরিচয়, বছর শেষে পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি
একটি সিনেমা—আর সেই এক সিনেমাতেই নতুন করে দর্শক-সমালোচকের আলোচনায় উঠে আসা। গত বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘দাগি’ দিয়ে অভিনয়ের জায়গায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তমা মির্জা। এবার নতুন গল্প ও নতুন চরিত্র নিয়ে পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী।
আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে শুরু হতে পারে তাঁর নতুন সিনেমার শুটিং। ভিকি জাহেদ পরিচালিত সিনেমাটির প্রাথমিক নাম ‘খলনায়ক’। তবে ছবির নাম চূড়ান্ত পর্যায়ে পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ছবিটির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় শুটিং শুরুর প্রস্তুতি চলছে। চলতি বছরের শেষ দিকে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নন তমা।
‘দাগি’র পর কেন এই ছবি?
নতুন সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়টি তমা নিজেই নিশ্চিত করেছেন। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে গল্প ও চরিত্র।
তমার ভাষায়, ‘একটা ছবি করছি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আগেও আমার কাজ হয়েছে, অভিজ্ঞতাও দারুণ। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে, “দাগি”র পর এর চেয়ে সুন্দর গল্পে ফেরাটাই আমার জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।’
নতুন ছবিতে নিজের চরিত্রটিও তাঁর পছন্দ হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী। তবে সিনেমার গল্প, চরিত্র কিংবা মুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি। তাঁর মতে, এসব বিষয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।
নায়িকা থেকে ব্যাংকার
অভিনয়ের খবরের পাশাপাশি তমার জীবনে এসেছে আরেকটি বড় পরিবর্তন। প্রায় তিন মাস ধরে দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
অভিনেত্রী থেকে ব্যাংকার—নতুন এই পরিচয় কেমন উপভোগ করছেন তমা?
উত্তরে তাঁর স্বস্তির কথাই ফুটে উঠেছে। নতুন কর্মপরিবেশ, সহকর্মী ও নতুন বন্ধুত্ব—সব মিলিয়ে সময়টা ভালোই কাটছে বলে জানান তিনি।
তবে নতুন পেশায় যোগ দেওয়ায় অভিনয়ে ছেদ পড়বে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তমা। তাঁর কাছে অভিনয় এখনো প্রথম ভালোবাসা।
তমা বলেন, ‘অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা আর ভালো লাগার জায়গা। এখানেই আছি, থাকব, আমৃত্যু কাজ করব ইনশা আল্লাহ।’
ব্যাংক কর্তৃপক্ষও তাঁর অভিনয়ের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানান তিনি। ফলে চাকরির পাশাপাশি অভিনয় চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যার মুখে পড়ছেন না।
বছরে এক-দুই ছবিই পছন্দ
অভিনয় নিয়ে তমার পরিকল্পনাও বেশ পরিষ্কার। বেশি সিনেমায় কাজ করার চেয়ে বেছে বেছে ভালো গল্পে অভিনয় করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
তাঁর মতে, বছরে একটি বা দুটি সিনেমায় কাজ করলেও বাকি সময় অন্য ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব। ব্যাংকের চাকরিকে সে কারণেই নিজের জন্য নতুন কিছু শেখার সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।
জীবনের এই ভিন্ন অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের অভিনয়েও কাজে লাগবে বলে মনে করেন তমা।
‘দুই বন্ধু’ নিয়ে জমেছে অভিমান
অভিনয়ের ক্যারিয়ারে তমার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল পশ্চিমবঙ্গের গায়ক-নির্মাতা অঞ্জন দত্তের পরিচালনায় ওয়েব সিরিজ ‘দুই বন্ধু’। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় সিরিজটির শুটিং করেছিলেন তিনি।
কলকাতার কোনো নির্মাতার সঙ্গে সেটিই ছিল তমার প্রথম কাজ। শুরুতে কিছুটা নার্ভাস থাকলেও শুটিং শুরুর পর দ্রুত সেই অস্বস্তি কেটে যায়। বরং অঞ্জন দত্তের পরিচালনার ধরন ও কাজের পরিবেশে মুগ্ধ হন তিনি।
টানা নয় দিন কলকাতায় শুটিং হয়েছিল সিরিজটির। তমার অভিজ্ঞতায়, গোটা কাজের পরিবেশ ছিল বেশ গোছানো ও পেশাদার। এক শিফটে কাজ হওয়া এবং প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকাকে বিশেষভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন তিনি।
কিন্তু শুটিং শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সিরিজটি এখনো মুক্তি পায়নি। কবে মুক্তি পাবে, সে সম্পর্কেও তমার কাছে নেই কোনো নির্দিষ্ট তথ্য।
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা হতাশাই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর কণ্ঠে। বিষয়টি নিয়ে আর ভাবতে চান না বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
চরিত্র বদলেছে, বদলেছে তমার অভিনয়ও
২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলীর ‘নদীজন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তমা মির্জা। এরপর সময়ের সঙ্গে নিজের অভিনয়ের ধরনেও পরিবর্তন এনেছেন তিনি।
‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘সাত নম্বর ফ্লোর’, ‘ফ্রাইডে’, ‘সুড়ঙ্গ’ থেকে ‘দাগি’—প্রতিটি কাজেই চরিত্রের বৈচিত্র্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এই অভিনেত্রী।
এবার সেই ধারাবাহিকতায় ‘খলনায়ক’। নতুন সিনেমায় কেমন চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে, তা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে না এলেও তমার নিজের ভাষ্যেই স্পষ্ট—‘দাগি’র পর ফেরার সিদ্ধান্তটি তিনি ভেবেচিন্তেই নিয়েছেন।
একদিকে ব্যাংকের ব্যস্ততা, অন্যদিকে অভিনয়ের নতুন প্রস্তুতি—জীবনের দুই ভিন্ন জগতকে একসঙ্গে সামলেই এগিয়ে যেতে চান তমা মির্জা। তাঁর কাছে এটি শুধু পেশা বদলের গল্প নয়; বরং নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনয়জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি নতুন অধ্যায়।





