নিউজ ডেস্কঃ
রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আজ রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করে পরে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে বুলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ওরফে প্রার্থী (২৬) এবং ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী ওরফে প্রিয়মের (১২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রংপুরের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। আজ রোববার দুপুরে
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতার মুঠোফোন থেকে তাঁর ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। এরপর গণপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন রাত আড়াইটার দিকে প্রীতিলতা তাঁর বোন পূজাকে ফোন করলেও কথা হয়নি। এরপর থেকে পরিবারের কারও সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
২২ আগস্ট সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা আবার বড় বোনকে ফোন করেন। কিন্তু পরিবারের চার সদস্যের মুঠোফোনই বন্ধ পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি স্বামী বিপুল আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে বোনের বাড়িতে যান।
বাড়িটি তখন অন্ধকার ছিল। ভেতর থেকেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাঁরা পাশের বাড়ির বাসিন্দাদের বিষয়টি জানান। একপর্যায়ে পূজা প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে বোনের বাড়ির ছাদে ওঠেন। জানালার লক ভেঙে টর্চের আলোয় ভেতরে তাকিয়ে তিনি ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। একই সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধও বের হচ্ছিল।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২১ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিট থেকে ২২ আগস্ট সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে গণপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেন। বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে আলমারি, শোকেস, আসবাব ও কাপড়চোপড় এলোমেলো ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্য কোনো ঘটনার মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার খবরে স্বজনদের আহাজারি। গতকাল রাতে রংপুর নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়ায়
রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে রোববার ভোরে আটক করা হয়। পরে তাঁদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার দাবি করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মুগ্ধ দাস নগরের সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ দাস একটি জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
রোববার বেলা দেড়টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে তাঁরা ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় শব্দ শুনে গণপতি ছাদে গেলে তাঁদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
গণপতির চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছরের শিশু আয়ুষ চক্রবর্তী ওরফে প্রিয়মকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের সদস্যরা আসামিদের চিনতেন। ফলে তাঁদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।






