বিশেষ প্রতিনিধি- সুবীর
চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাছবোঝাই পিকআপ ভ্যানে ধাক্কা দিয়েছে লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা নবজাতকের তিন স্বজন আহত হয়েছেন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নবজাতকের মরদেহ নিয়ে ফেনীর সোনাগাজীতে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন নবজাতকের চাচা আমির হোসেন, দাদি সুফিয়া খাতুন এবং নানি বিউটি বেগম। তাদের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায়। আহতদের মধ্যে আমির হোসেন অ্যাম্বুলেন্সের চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোনাগাজীর একটি হাসপাতালে নবজাতকটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে তাকে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে সোনাগাজীর উদ্দেশে রওনা দেন।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আক্তার হোসেন জানান, চট্টগ্রাম থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুতগতিতে চলছিল। দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় এসে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা মাছবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিনজন আহত হন। তবে নবজাতকের মা মনোয়ারা বেগম, যিনি একই অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন, তিনি অক্ষত রয়েছেন।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আফসার জানান, সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাছবাহী পিকআপ ভ্যানের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।





