বিশেষ প্রতিনিধি- সুবীর
দেশের শিক্ষা খাতে এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক এবং বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেছে। আদালত সরকারের আপিল গ্রহণ করায় এখন ওই সংখ্যক প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার কাছে আরও একটি সুসংবাদ রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষকের নিয়োগের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেছে। বিভাগটি আমাদের আপিল গ্রহণ করেছে এবং আমরা এখন ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করতে পারব।”
এ সময় এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষক-প্রভাষক অন্তর্ভুক্তির কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এর সঙ্গে আরও প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় খবর।
পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীতে এমনটি ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হলেও তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষায় প্রায় ৩৩ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।
তিনি বলেন, “যখন আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছি, তখন এটি আমাদের জন্য ভালো খবর নয়।”
শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের অপচয় বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ ঋণ ও অনুদান নেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি। ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষা পরিচালিত হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে। সরকারের ভূমিকা হবে সহায়ক প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করা, যাতে শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা লাভ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।





