বিশেষ প্রতিনিধি- সুবীর
রাউজান: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে চাচাতো ভাইয়ের হামলায় গুরুতর আহত মন্নান সওদাগর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
রোববার (২৯ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরীর বেসরকারি সাজিনাজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জানিপাথর বাজার এলাকায় কথাকাটাকাটির জেরে প্রকাশ্যে তার চাচাতো ভাই শাহাজান গাছের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর অভিযুক্ত শাহাজান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা মন্নানকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নগরীর সাজিনাজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত মন্নান সওদাগর রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ কবির আহাম্মদের ছেলে এবং মোহাম্মদ লোকমান সওদাগরের ভাই। অভিযুক্ত শাহাজান একই এলাকার সালেহ আহমদের ছেলে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “পিটুনিতে আহত একজনের মৃত্যুর খবর হাসপাতাল সূত্রে জেনেছি। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
হলদিয়া ইউনিয়নে বাড়ছে হত্যাকাণ্ড
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হলদিয়া ইউনিয়নে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তীতা গাজীপাড়া এলাকায় প্রকৌশলী মুহাম্মদ নুরুল আলম বকুল নিজ মা ও ভাইয়ের হাতে নিহত হন। একই বছরের ১৫ মার্চ প্রতিপক্ষের হামলায় হলদিয়া ইউনিয়নের কমর উদ্দিন জিতু নামে এক যুবদলকর্মী নিহত হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর শুধু হলদিয়া ইউনিয়নেই এ পর্যন্ত তিনজন নিহত হয়েছেন। আর একই সময়ে রাউজান উপজেলায় অন্তত ৩০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে অন্তত ১৮টি হত্যাকাণ্ড। ধারাবাহিক এসব সহিংস ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।





