ডেস্ক নিউজ-বাংলা টুডে
রাজবাড়ীর কাপড় বাজারে পুলিশের উপস্থিতিতে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে লাথি ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনার তিন দিন পর মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলাটি করেন জাকিয়া সুলতানা। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশের সামনেই নারী উদ্যোক্তাকে লাথি-ধাক্কা
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রাজবাড়ী পৌরসভার ধুঞ্চি এক নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জমজম খানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), ধুঞ্চি ২৮ কলোনি এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন (১৯) এবং ধুঞ্চি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩৮)।
জাকিয়া সুলতানা রাজবাড়ী বড় বাজারের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
কর্মচারীর সঙ্গে বিরোধ, এরপর হামলার অভিযোগ
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর সঙ্গে হিসাব নিয়ে জাকিয়া সুলতানার বিরোধ দেখা দেয়। এ ঘটনার জেরে তিনি তাঁর কর্মীদের নিয়ে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এ সময় কয়েকজন দলবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা জাকিয়া ও তাঁর কর্মীদের মারধর এবং শ্লীলতাহানি করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের সামনেই লাথি-ধাক্কার ভিডিও
ঘটনার পর পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারী উদ্যোক্তাকে লাথি ও ধাক্কা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী পুলিশ সদস্য জাকিয়া সুলতানাকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর পেছনে ছিলেন আরও দুজন পুরুষ পুলিশ সদস্য। এ সময় এক যুবক তাঁকে লাথি দেন। পরে পেছনে থাকা এক পুলিশ সদস্য ওই যুবককে সরিয়ে দেন।
এরপর আরেক যুবক জাকিয়াকে লাথি দেন। পরে অন্য এক ব্যক্তি তাঁকে ধাক্কা দেন। পুরো ঘটনাটি পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটতে দেখা যায়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তিনজন গ্রেপ্তার, চলছে অভিযান
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, মামলার পর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ‘বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
এদিকে পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে একজন নারী উদ্যোক্তাকে লাথি ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মামলার পর গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত করছে পুলিশ।




