দেশকে এগিয়ে নিতে বিভ্রান্তকারীদের সুযোগ দেওয়া যাবে না’
বিশেষ প্রতিনিধি- সুবীর
দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা না থাকলে বিনিয়োগ আসবে না, শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে না এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে না। একই সঙ্গে যারা দেশে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে হলে প্রথমেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে যদি কারখানা স্থাপন করতে হয়, তাহলে পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।’
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা শিল্পকারখানা স্থাপনের পর তাঁদের উৎপাদিত পণ্য যাতে নির্বিঘ্নে বন্দরে পৌঁছাতে পারে এবং কাঁচামাল যাতে নিরাপদে কারখানায় আনা যায়, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তাঘাট ও শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করা সম্ভব হবে না।
বন্যার্তদের ঘরের চাবি তুলে দিতে বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার পরিবেশের জন্যও আইনশৃঙ্খলা জরুরি
শুধু বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নয়, দেশের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সন্তানদের সুন্দরভাবে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলেও দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের যারা বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা যাতে কোনো সুযোগ না পায়। কারণ, বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।’
তিনি বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিরা নিজেদের মতো করে চলে যাবে, কিন্তু ক্ষতির শিকার হবে সাধারণ মানুষ। তাই দেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা দেশকে এগিয়ে নিতে চায়, নাকি ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও বিভ্রান্তির মধ্যে থাকতে চায়।
৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে পাইলট প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়েদের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসারে নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে মায়েরা সন্তানদের লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও আরও কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি আমরা কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করেছি।’
মিরসরাই-মাতারবাড়ি ঘিরে শিল্পায়নের পরিকল্পনা
সমুদ্রসম্পদ ও উপকূলীয় অঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যেই তিনি মাতারবাড়ি সফর করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রকে ব্যবহার করে কীভাবে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী; চট্টগ্রাম সফরে বৈঠক করবেন হেফাজত আমিরের সঙ্গে, নিরাপত্তা জোরদার পুলিশের
বাঁশখালীতে ১০০ পরিবার পেল নতুন ঘর
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বাঁশখালীতে ১০০টি অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। প্রতিটি ঘরে রয়েছে দুটি কক্ষ এবং পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুটের একটি সংযুক্ত শৌচাগার। উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘরগুলো নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুর মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা সফরের অংশ হিসেবে আজ রবিবার
সকালেই চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আগমন
রোববার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে সকাল সোয়া ৯টার দিকে হেলিকপ্টারে মাতারবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে হেলিপ্যাডে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেলিকপ্টার থেকে নামেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
দিনভর চট্টগ্রামে ব্যস্ত কর্মসূচি
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে রয়েছে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ। এরপর হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারতের কথা রয়েছে।
বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রাবিরতির পর বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
কর্মসূচি শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হজরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।






