পদ্মায় খলিলুর-দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ, আলোচনার বিষয় প্রকাশ হয়নি
বিশেষ প্রতিনিধি-বাংলা টুডে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। রোববার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে বৈঠকে দুই দেশের কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে এটি একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক। তারা কী নিয়ে আলোচনা করেছেন, তা আমি জানি না।’
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের নানা ইস্যুতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এ বৈঠক নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত অনুষ্ঠানে অডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এতে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন।
ওই আয়োজনের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান।
তবে অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে ঢাকার বার্তা
এদিকে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও গঠনমূলক রাখার বিষয়ে ঢাকার অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। গত ৬ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক চায়। পানি, জ্বালানি ও সীমান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এর আগে ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না।
ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিদ্যমান কিছু ‘অস্বস্তি’ দূর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
বৈঠকের দিকে নজর কূটনৈতিক মহলের
এমন প্রেক্ষাপটে রোববারের খলিলুর রহমান ও দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বৈঠকে শেখ হাসিনার বক্তব্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন, সীমান্ত, পানি কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি।
ফলে বৈঠক থেকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা নতুন সমঝোতা হয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এ বৈঠককে ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।






