বিশেষ প্রতিনিধি-বাংলা টুডে
বিএনপি সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি, তাই আলাদা প্রার্থী: নাহিদ ইসলাম
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আজ রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রসংস্কারের বিষয়ে বিএনপি অনীহা দেখিয়েছে। তারা পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মতোই রাষ্ট্র পরিচালনার পথে এগোচ্ছে। ১১–দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আশা করা হয়েছিল, জুলাই সনদের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিএনপি এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কারের পথে এগিয়ে এলে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলেই রাষ্ট্রপতি পদে একজন একক প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু বিএনপি সে উদ্যোগ না নেওয়ায় ১১–দলীয় ঐক্য নিজেদের পক্ষ থেকে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাব ও আরেকজন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। এখন বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী দেওয়া হবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কয়জন প্রার্থী থাকছেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






