হুট করে ফোন কেড়ে নয়, ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলের পরামর্শ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
খাবারের প্লেট সামনে, অথচ হাতে মোবাইল না থাকলে খাবার মুখে তুলতেই চায় না—বর্তমানে অনেক পরিবারের পরিচিত দৃশ্য এটি। শিশুকে শান্ত রাখতে শুরুতে হাতে মুঠোফোন তুলে দেওয়া সহজ সমাধান মনে হলেও, একসময় সেটিই পরিণত হতে পারে খাবারের সঙ্গে স্ক্রিনের গভীর নির্ভরতায়।
খাওয়ার সময় কার্টুন, ভিডিও কিংবা নানা ধরনের বিনোদনমূলক কনটেন্ট শিশুর মনোযোগ খাবার থেকে সরিয়ে পর্দায় আটকে রাখে। এতে শিশু হয়তো অনায়াসে খাবার শেষ করে, কিন্তু কখন ক্ষুধা লাগছে, কতটা খাচ্ছে কিংবা পেট ভরে গেছে কি না—শরীরের এসব স্বাভাবিক সংকেত বোঝার অভ্যাস তৈরি হয় না।
দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ক্ষুধা ও তৃপ্তির স্বাভাবিক অনুভূতিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। একই সঙ্গে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে গিয়ে খাওয়ার সময় মোবাইল বা অন্য কোনো ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীলতাও তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করতে করতে খাওয়া কিংবা খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন অনুভব করার মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা থেকেও বঞ্চিত হয় শিশু।
হুট করে ফোন কেড়ে নেওয়া নয়
বলিউড তারকা করিনা কপূর ও আলিয়া ভট্টের পুষ্টিবিদ হিসেবে পরিচিত ঋজুতা দিবেকর এ ধরনের পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।
সমাজমাধ্যমে দেওয়া পরামর্শে তিনি বলেন, সন্তান ফোন ছাড়া খেতে না চাইলে অভিভাবকদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন পরিস্থিতিতে হুট করে ফোন কেড়ে না নিয়ে ধীরে ধীরে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।
তাঁর মতে, শিশুর অভ্যাস পরিবর্তনে প্রয়োজন সঠিক কৌশল ও ধারাবাহিকতা।
যেভাবে কমাবেন খাবারের সময় স্ক্রিন
১. খাবারের সময় নির্দিষ্ট করুন
প্রতিদিন মধ্যাহ্নভোজ ও রাতের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিন। এতে শিশুর শরীরে ধীরে ধীরে একটি স্বাভাবিক ক্ষুধার চক্র তৈরি হবে। নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষুধা লাগলে ফোন ছাড়াই খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা সহজ হবে।
২. পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়ান
শিশুকে একা বসিয়ে খাওয়ানোর পরিবর্তে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করা, কথা বলা ও পারস্পরিক যোগাযোগ শিশুর মনোযোগ খাবার ও পরিবারের দিকে রাখতে সাহায্য করবে।
৩. ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন
তাড়াহুড়ো করে খাবার শেষ না করিয়ে শিশুকে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করাতে হবে। মনস্তত্ত্বে এটিকে বলা হয় ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ বা সচেতনভাবে খাওয়া। এতে শিশু খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন সম্পর্কে সচেতন হতে শেখে এবং খাবারের সময় বিনোদনের জন্য ফোনের প্রয়োজনীয়তা ধীরে ধীরে কমতে পারে।
একবার ফোন ছাড়াই খেলেই সাফল্য
পুষ্টিবিদের মতে, একদিনেই শিশুর অভ্যাস পুরোপুরি বদলে যাবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, শিশুর স্ক্রিননির্ভরতা কমানোর পথে ছোট সাফল্যও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একদিন যদি শিশু ফোন বা টেলিভিশন না দেখেই খাবার খেয়ে নেয়, সেটিকেই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখতে হবে।
অর্থাৎ খাবারের টেবিলে মোবাইলের বদলে পরিবার, গল্প আর খাবারের স্বাভাবিক আনন্দ ফিরিয়ে আনাই হতে পারে শিশুর স্ক্রিন-নির্ভরতা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর শুরু।






