বিশেষ প্রতিনিধি-বাংলা টুডে
মাদ্রাসায় থাকতে মন চাইছিল না ১০ বছরের শিশু ইয়াসমিন আক্তার মিলির। ছুটি শেষে স্বজন তাকে মাদ্রাসায় রেখে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় সে। ছয়তলা ভবনের ছাদে উঠে সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে একপর্যায়ে জানালার সরু কার্নিশে আটকা পড়ে শিশুটি। নিচে তখন উৎসুক মানুষের ভিড়, আর ওপরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আতঙ্কিত ইয়াসমিন।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ফেনী শহরের হাজারী রোড এলাকার দারুন নাজাত মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কারিগরি কৌশল প্রয়োগ করে ঝুঁকিপূর্ণ কার্নিশ থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ইয়াসমিন আক্তার মিলি সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের দুবাইপ্রবাসী আবদুল শুক্কুরের মেয়ে। সে দারুন নাজাত মহিলা মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্র জানায়, তিন দিনের ছুটি শেষে শনিবার সকালে ইয়াসমিনকে মাদ্রাসায় রেখে যান তার এক খালাতো ভাই। তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ইয়াসমিন মাদ্রাসার ছয়তলা ভবনের ছাদে উঠে পড়ে। পরে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে একটি জানালার কার্নিশে গিয়ে আটকা পড়ে।
এদিকে পাশের ভবনের লোকজন শিশুটিকে কার্নিশের ওপর বিপজ্জনক অবস্থায় দেখতে পান। মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কারিগরি কৌশল ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে নিরাপদে কার্নিশ থেকে নামিয়ে আনা হয়।
ফেনী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মামুন মিয়া বলেন, দুপুর ১২টার দিকে তারা খবর পান। পরে ছয়তলা ভবনের কার্নিশ থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, শিশুটির সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদ্রাসায় পড়তে অনিচ্ছুক হওয়ায় সে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল। পরে মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদ্রাসার মুহতামিম আবদুল আজিজ বলেন, অভিভাবকরা শিশুটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। এর আগেও সে আরও দুইবার মাদ্রাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। শনিবার তার এক খালাতো ভাই তাকে মাদ্রাসায় রেখে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তারা ঘটনাটি জানতে পারেন।
তিনি জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে ইয়াসমিনকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইয়াসমিন আগে গ্রামের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। সেখানে যেতে অনীহা এবং বাড়িতে দুষ্টুমি করায় ভালোভাবে পড়াশোনা করানোর উদ্দেশ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাকে ফেনী শহরের ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।
তবে শনিবারের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে শিশুটি। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও দক্ষ উদ্ধার তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছে ইয়াসমিন।





