বিশেষ প্রতিনিধি- বাংলা টুডে
শুক্রের ঝলক, উল্কার ছুট, সামার ট্রায়াঙ্গেল আর মিল্কিওয়ে—আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষায় মনোমুগ্ধকর দৃশ্য
ভাদ্রের শুরুতে বর্ষার মেঘের ঘনঘটা কিছুটা কমে এলে রাতের আকাশও হয়ে ওঠে তুলনামূলক স্বচ্ছ। দিনের ভ্যাপসা গরমের পর সন্ধ্যা নামতেই মেঘমুক্ত আকাশে একে একে ফুটে উঠতে থাকে নক্ষত্র। ২০২৬ সালের ১৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য এমনই বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক দৃশ্য অপেক্ষা করছে।
এই সময় সন্ধ্যার পশ্চিম আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে দেখা দেবে শুক্র গ্রহ। একই সঙ্গে মাসের শেষার্ধের অন্ধকার আকাশে দেখা মিলতে পারে পারসেইড উল্কাপাতের শেষ দিকের কিছু উল্কার। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথার ওপর উঠে আসবে সামার ট্রায়াঙ্গেল। আর শহরের আলো পেরিয়ে গ্রামাঞ্চলে গেলে চোখে পড়তে পারে আকাশগঙ্গার বিস্তৃত নক্ষত্রমালা।
সন্ধ্যার পশ্চিম আকাশে শুক্রের ঝলক
আগস্টের শেষ দুই সপ্তাহে সন্ধ্যার আকাশের অন্যতম আকর্ষণ হবে শুক্র গ্রহ। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম থেকে উত্তর-পশ্চিম দিগন্তের ওপরে অত্যন্ত উজ্জ্বল একটি বিন্দু হিসেবে দেখা যাবে তাকে। প্রায় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে খালি চোখেই শুক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
তবে মাসের শেষ দিকে শুক্র দিগন্তের আরও কাছে নেমে আসবে। ফলে সূর্যাস্তের পরপরই পশ্চিম দিগন্তে নজর দেওয়া সবচেয়ে ভালো। উঁচু ভবনের ছাদ কিংবা পশ্চিম দিকে খোলা জায়গা থেকে দেখলে দৃশ্যটি আরও স্পষ্ট হতে পারে। ঢাকার মতো আলোকদূষণপূর্ণ শহরেও শুক্রের উজ্জ্বলতা সহজেই চোখে পড়বে।
চাঁদের আলো কম, অন্ধকার আকাশে নক্ষত্র দেখার সুযোগ
আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে চাঁদ ক্ষীয়মাণ হতে থাকায় সন্ধ্যার আকাশ ক্রমেই অন্ধকার হয়ে উঠবে। বিশেষ করে রাত ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে চাঁদের আলো কম থাকায় তুলনামূলক ম্লান নক্ষত্র, তারাগুচ্ছ ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণের সুযোগ বাড়বে।
২৮ ও ২৯ আগস্ট অমাবস্যার কাছাকাছি অন্ধকার রাত থাকায় আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি হবে বিশেষ আকর্ষণের সময়। শহরের বাইরে আলোকদূষণ কম এমন স্থানে গেলে খালি চোখেই আরও বেশি তারা দেখা সম্ভব হবে। বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ থাকলে অভিজ্ঞতাটি হতে পারে আরও চমৎকার।
পারসেইডের শেষ রেশ, ছুটতে পারে উল্কা
পারসেইড উল্কাপাতের সর্বোচ্চ সক্রিয়তা ১২ ও ১৩ আগস্ট পার হয়ে গেলেও এর কার্যক্রম আগস্টের শেষ সপ্তাহের আগ পর্যন্ত চলতে পারে। তাই ১৬ থেকে ২২ আগস্টের মধ্যে পরিষ্কার আকাশে মাঝেমধ্যে উজ্জ্বল উল্কা বা ফায়ারবল চোখে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
উত্তর-পূর্ব আকাশের দিকে কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে তাকিয়ে থাকলে এমন দৃশ্য ধরা দিতে পারে। চাঁদের আলো কম থাকায় এ সময় উল্কাগুলো তুলনামূলক ভালোভাবে চোখে পড়তে পারে।
মাথার ওপর ‘সামার ট্রায়াঙ্গেল’
রাত ৮টার পর আকাশের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে সামার ট্রায়াঙ্গেল। ভেগা, ডেনেব ও আলটায়ার—তিন উজ্জ্বল নক্ষত্রকে যুক্ত করলে তৈরি হয় বিশাল এই কাল্পনিক ত্রিভুজ।
লাইরা, সাইগনাস ও অ্যাকুইলা নক্ষত্রপুঞ্জের এই তিন উজ্জ্বল তারা আগস্টের শেষার্ধে রাতের আকাশে বেশ উঁচু অবস্থানে থাকবে। পরিষ্কার আকাশে খালি চোখেই তিনটি নক্ষত্র শনাক্ত করা সম্ভব।
বৃশ্চিক, ধনু আর আকাশগঙ্গার হাতছানি
দক্ষিণ আকাশে এ সময় নজর কাড়বে বৃশ্চিক নক্ষত্রপুঞ্জ। এর অন্যতম উজ্জ্বল লালচে তারা অ্যান্টারেসও পরিষ্কার আকাশে সহজেই চোখে পড়তে পারে। কাছাকাছি ধনু নক্ষত্রপুঞ্জও রাতের আকাশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
শহরের আলো থেকে দূরে গ্রামাঞ্চল কিংবা অন্ধকার কোনো স্থানে গেলে ধনু নক্ষত্রপুঞ্জের আশপাশে মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার উজ্জ্বল অংশও দেখা যেতে পারে। অন্ধকার আকাশে অসংখ্য তারার সমষ্টি হয়ে এটি এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করবে।
শেষ দুই দিন নতুন চাঁদের সরু হাসি
আগস্টের ৩০ ও ৩১ তারিখে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে শুক্রের নিচের দিকে খুব সরু নতুন বাঁকা চাঁদ দেখা যেতে পারে। অন্ধকার হয়ে আসা আকাশে উজ্জ্বল শুক্রের সঙ্গে সরু চাঁদের এই যুগল উপস্থিতি দিনের শেষ আলোকে আরও নান্দনিক করে তুলবে।
সব মিলিয়ে আগস্টের শেষ দুই সপ্তাহ হতে যাচ্ছে রাতের আকাশ দেখার জন্য বেশ আকর্ষণীয় সময়। মেঘমুক্ত সন্ধ্যা, কম চাঁদের আলো এবং উজ্জ্বল শুক্র—সব মিলিয়ে ঢাকাসহ বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য প্রকৃতির এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী উপভোগের সুযোগ থাকছে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত।






