বিশেষ প্রতিনিধি- বাংলা টুডে
কক্সবাজারের টেকনাফে নজিরবিহীন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দিনদুপুরে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে অস্ত্রধারী মুখোশধারী ডাকাতদল। এ সময় টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে গিয়ে এক প্রতিনিধিকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত এবং অপরজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করা হয়।
রোববার (৩ আগস্ট) বেলা পৌনে দুইটার দিকে টেকনাফ–কক্সবাজার সড়কের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল পর্যন্ত বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালালেও লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গুরুতর আহত বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. আল আরমান (২৬) টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর প্রতিনিধি একরাম হোসেনকে মারধরের পর টেকনাফ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, টেকনাফ বাসস্ট্যান্ড থেকে কক্সবাজারগামী পালকি পরিবহনের একটি বাসে বিকাশের দুই কর্মী নগদ টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। বাসটি দমদমিয়া এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর কয়েকজন মুখোশধারী বাসে উঠে বিকাশের দুই প্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একজনকে ছুরিকাঘাত এবং অন্যজনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে দুটি ব্যাগে থাকা মোট ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের ভাষ্য, ডাকাতরা বাস থামানোর আগে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়ে, যাতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর পাঁচ থেকে ছয়জন বাসে উঠে সরাসরি বিকাশের কর্মীদের খুঁজতে থাকে। আল আরমানের ডান বাহু ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং একরাম হোসেনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করা হয়। পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে।
বাসচালক ফয়েজুল করিম বলেন, সড়কে ফেলে রাখা গাছের গুঁড়িতে লম্বা পেরেক লাগানো ছিল। ফলে সেটি সরিয়ে বা বাস চালিয়ে পার হওয়া সম্ভব হয়নি। একই সময়ে কয়েকজন অস্ত্রধারী বাসের সামনে অবস্থান নিয়ে অস্ত্র তাক করে রাখায় প্রতিরোধের সুযোগ ছিল না। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর বাসটি নিকটবর্তী দমদমিয়া বিজিবি চেকপোস্টে গিয়ে বিষয়টি জানায়। পরে বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
বিকাশ এজেন্ট ও স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, সকালে তিনি সীমান্ত ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্যে ৫৭ লাখ টাকা হ্নীলা, লেদা ও হোয়াইক্যং এলাকার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে দুই বিক্রয় প্রতিনিধির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। আরমানের কাছে ছিল ২২ লাখ টাকা এবং একরাম হোসেনের কাছে ছিল ৩৫ লাখ টাকা।
এত বড় অঙ্কের অর্থ সাধারণ যাত্রীবাহী বাসে বহনের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল করিম বলেন, প্রতিদিনই তাঁদের প্রতিনিধিরা ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের কাছে যান। তাঁর দাবি, টাকার তথ্য আগেই ডাকাতদের কাছে ফাঁস হয়েছিল। অন্যথায় পরিকল্পিতভাবে সড়কে কাঁটাযুক্ত গাছ ফেলে বাস থামিয়ে এমন অভিযান চালানো সম্ভব হতো না।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর বাসটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে থানায় আনা হয়েছে। আহত দুই কর্মীর সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছিল।






