বিশেষ প্রতিনিধি- সুবীর
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনই হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র হাতে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, রোববার সীতাকুণ্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দিদার ও আবছারকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দিদার ও আবছার কথিত সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে একই মামলায় আরেক আসামি ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি জানান, দিদারের বিরুদ্ধে ১৩টি এবং আবছারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। তবে মাসুদুল হককে কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে—এ বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকায় এখনই বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।
গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনার দুই দিন পর নিহতের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিদেশে অবস্থানরত কথিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হানসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে ইলিয়াস ও দিদার মাসুদুল হককে লক্ষ্য করে গুলি চালান। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার এগিয়ে গিয়ে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের মুখ ঢাকা থাকলেও বাকিদের চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, পৃথক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিম হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকায় নাজিমকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে।






