শিক্ষানবিশদের কাছে ৪৮ ঘন্টা সময় নিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

মোস্তাফিজ মিয়া:

এডভোকেটশীপ এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশদের ভাইভার মাধ্যমে অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নিতে ৪৮ ঘন্টা সময় নিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।১৩হাজার শিক্ষার্থীর অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীস্থ আইনমন্ত্রীর বাসার সামনে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। শিক্ষানবিশ আইনজীবী আন্দোলনের নেতা আসাদুজ্জামান বলেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্যার আমাদের কাছ থেকে ৪৮ ঘন্টা সময় নিয়েছেন। মন্ত্রীর আশ্বাসে তার বাসভবনের সামনে থেকে আমরা চলে এসেছি।

দীর্ঘ তিন বছর পর এমসিকিউ পরীক্ষা হলেও লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা না নেয়ায় আমরা বেকার দিনযাপন করছি। তাই করোনা বিবেচনায় আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে লিখিত পরীক্ষা মওকুফ এবং ভাইভার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে শিক্ষানবিশদের আইনজীবী সনদ প্রদানের দাবি জানান এসব শিক্ষার্থীরা।এর আগে একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ১৩৫ দিনের প্রতিকী অনশন পালন করে। কিন্তু এরপরও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করে। গতকাল সকালে এসব শিক্ষানবিশরা তাদের দাবি আদায়ে শাহবাগে অবস্থান নেন। এরপর তারা আইনমন্ত্রীর বাসার সামনে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, ইতিমধ্যে আমাদের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন এমসিকিউ উত্তীর্ণ সহপাঠিদের কেউ স্ট্রোক করে, কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্নপূরণের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষানবিস আইনজীবী করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মহামারীর এই চরম সংকট মূহুর্তে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ বিবেচনায় আমরা যারা প্রায় ৯০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে থেকে ১২ হাজার ৮৭৮ জন এমসিকিউ পরীক্ষায় উতীর্ণ হই। এমসিকিউ পরীক্ষার পর থেকে তারা বিভিন্নভাবে শীঘ্রই লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আন্দোলন করে আসছে। বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবশেষে আইন মন্ত্রীর বাসার সামনে অবস্থান নেন পরীক্ষার্থীরা।

শেয়ার করুন :

Check Also

ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে এসে রাত কাটে খোলা আকাশের নিচে

ডেস্ক নিউজ- বাংলা টুডে মেশিন সংকটে রেডিওথেরাপির দীর্ঘ অপেক্ষা, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোগী-স্বজনের মানবেতর জীবন ঢাকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *