বিশেষ প্রতিনিধি | Bangla Today
সরকারি রাজস্ব দিতে চাইলেও তা গ্রহণ করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমি মালিকদের মধ্যে। বিশেষ করে ভিপি (Vested Property) তালিকাভুক্ত খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বৈধ মালিকরা ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি খতিয়ানের কোনো একটি অংশ বা দাগ ভিপি সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেই অনেক ক্ষেত্রে পুরো খতিয়ানকে জটিল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যার ফলে একই খতিয়ানের অন্যান্য অংশের বৈধ মালিকরাও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ তাঁদের নামে বৈধ দলিল, উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা, রেকর্ড এবং দীর্ঘদিনের ভোগদখলের প্রমাণ রয়েছে।
কর দিতে না পারায় থমকে যাচ্ছে নাগরিক সেবাঃ
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে না পারার কারণে অনেক ভূমি মালিক নামজারি, খারিজ, জমি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, সরকারি রাজস্ব আদায়ও ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে যোগাযোগ করলে তাঁদের জানানো হয় যে, খতিয়ানে ভিপি সম্পত্তি থাকায় কর গ্রহণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু কেন সম্ভব নয় এবং এর আইনি ভিত্তি কী—সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক কোন উত্তর মেলে না।
আইনের সঠিক প্রয়োগ নাকি প্রশাসনিক জটিলতা?
ভূমি আইন নিয়ে কাজ করা একাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা মনে করেন- ভিপি সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন থাকলেও একই খতিয়ানের অন্যান্য বৈধ মালিকদের অধিকার সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন। কোনো একটি দাগের অংশ ভিপি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেই পুরো খতিয়ানের অন্যান্য মালিকদের কর প্রদানের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যা কতটা আইনসম্মত, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল এর সাথে কথা বললে- ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চান-
ভিপি তালিকাভুক্ত খতিয়ানের অন্যান্য বৈধ মালিকদের ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধান কী?
বৈধ মালিকানা প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন তাঁদের কর পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না?
কর গ্রহণ না করার ফলে যদি নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়, তার দায়ভার কে নেবে?
সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির স্বার্থে বৈধ মালিকদের নিকট হতে কর গ্রহণের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কিনা?
মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবঃ
স্থানীয় বিভিন্ন তহসীল অফিসে ভোগান্তির শিকার ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিজ নিজ জমি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু ভিপি খতিয়ানের জটিলতার কারণে তাঁরা এখন নিজেদের সম্পত্তির কর পরিশোধ করতে না পেরে নিজেদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এতে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বিনষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি সরকারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্তের দাবিঃ
ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা মনে করেন- ভুমি মন্ত্রণালয় অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে বৈধ মালিকদের নিকট হতে কর গ্রহণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিবেন এবং বৈধ মালিকদের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের অধিকার নিশ্চিত করবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি খতিয়ানের কোনো অংশ ভিপি তালিকাভুক্ত থাকলেও অন্যান্য বৈধ মালিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা এবং রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে বাস্তবসম্মত ও আইনসম্মত সমাধান এখন সময়ের দাবি।
এখন প্রশ্ন একটাই—ভূমি উন্নয়ন কর দিতে ইচ্ছুক নাগরিকদের কর গ্রহণে বাধা কেন? এই প্রশ্নের জবাব কি দেবে ভূমি মন্ত্রণালয়?





