ডেস্ক রিপোর্ট-বাংলা টুডে
শর্টকাট পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেতের আইলের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে তিনি জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দি গ্রহণের পর রাত আটটার দিকে সুমনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। মধ্যরাতে আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়ার একটি ধানখেতের আইলের পাশ থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের অদূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়। ওই অটোরিকশার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় কিশোরীর একটি পোশাক।
নিহত কিশোরীর গ্রামের বাড়ি যশোরে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে সে কুমিল্লা নগরের একটি ভাড়া বাসায় থাকত। নগরের একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত সে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পরদিন শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
শনিবার সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। পুলিশ জানায়, কিশোরীটি সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেছিল। শর্টকাট পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় সুমনের এককভাবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সামনে এগোবে।
BANGLA TODAY আজকের বাংলা