বিশেষ প্রতিনিধি- সুবীর
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা দিয়েছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এবার ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল শিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
শূন্য পাসে সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান
এবার শূন্য পাসের ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
গত বছরের তুলনায় শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭৮টি বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার মান, প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান ব্যবস্থা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সাধারণ বোর্ডে পাসের হার কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ
এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট উত্তীর্ণ ছাত্রের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
জিপিএ-৫ কমেছে ১৯ হাজারের বেশি
২০২৫ সালে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।
সব মিলিয়ে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী।
কারিগরিতে পাস ৫৮.২০ শতাংশ
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার আরও কম। এ বছর এ বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন।
বেড়েছে প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষাকেন্দ্র
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩০৩টি বেড়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্র বেড়েছে ২০১টি।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে ফলাফল জানতে পারে। তবে সার্বিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়া এবং শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবারের ফলাফল শিক্ষা খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






