[bangla_date],[english_date]

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ২৫ কেজি সোনা-রুপা, ১৭ দেশের মুদ্রা

ডেস্ক রিপোর্ট- বাংলা টুডে

প্রায় ছয় বছর পর ওজন ও গণনা, নিলামে বিক্রি হবে স্বর্ণালংকার-রুপা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়েছে প্রায় ২৫ কেজি সোনা ও রুপা। এর সঙ্গে পাওয়া গেছে ১৭ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রা। প্রায় ছয় বছর পর দানবাক্সে পাওয়া এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, সোনার ক্যারেট যাচাই ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম চলে।

জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দানবাক্সে পাওয়া ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালংকারের ওজন প্রায় ১২ দশমিক ১৮ কেজি। আর ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপার ওজন প্রায় ১২ দশমিক ৬৯ কেজি। সব মিলিয়ে সোনা ও রুপার ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ দশমিক ৮৭ কেজি।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্স থেকে পাওয়া স্বর্ণালংকার, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সিলগালা অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। পরে ট্রেজারিতে রাখা নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব সামগ্রী আলাদা করা হয়।

১৭ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা

দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৮ হাজার ৫৭ মার্কিন ডলার, ৫৭ হাজার ৪১৪ সৌদি রিয়াল, ৩৭ হাজার ৮৭৭ ভারতীয় রুপি, ২৯ হাজার ৬৬২ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ১৪ হাজার ২৪০ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ৭৬৭ কুয়েতি দিনার, ৮৮৮ ওমানি রিয়াল, ৭ হাজার ৯৭৩ কাতারি রিয়াল এবং ৩৩৩ বাহরাইনি দিনার।

এ ছাড়া পাওয়া গেছে ১ হাজার ৭১৮ সিঙ্গাপুর ডলার, ১ হাজার ২২০ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৫ হাজার ২৪৫ ইউরো, ৫৫৫ অস্ট্রেলীয় ডলার, ২৫ কানাডীয় ডলার, ৯০০ মালদ্বীপের রুফিয়া ও ৩০৫ চীনা ইউয়ান। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রা পাওয়া গেছে।

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা-রুপার ওজন নির্ধারণ করা হয়। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম

নিলামে বিক্রি হবে স্বর্ণালংকার ও রুপা

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে ওজন নির্ধারণ ও গণনার কাজ পরিচালিত হয়। এতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণালংকার ও রুপার ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপ করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ওজন নির্ধারণ ও গণনা শেষে স্বর্ণালংকার ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নিলামে বিক্রি করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া স্বর্ণালংকার ও রুপা ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। তখন প্রায় তিন বছর ধরে দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি করা হয়।

শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

আজকের প্রধান সংবাদ
Md Moffassir

গুজব ঠেকাতে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই জরুরি: বাসস প্রধান সম্পাদক

বিশেষ প্রতিনিধি- বাংলা টুডে সাংবাদিকতায় সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান গুজব,

Read More »