নিয়োগের আগেই শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ২৪৯ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট-বাংলা টুডে

মাধ্যমিকে চালু হচ্ছে প্রাক্‌-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ মডেল, প্রশিক্ষণ পাবেন ২০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষা প্রশাসক

মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগেই প্রার্থীদের পেশাগত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘প্রফেশনালাইজেশন ফর এনহ্যান্সড লার্নিং প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্পের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

এত দিন শিক্ষক পদে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন প্রস্তাবে চাকরিতে প্রবেশের আগেই প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক হবে, নাকি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

মাউশির প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চার বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর সম্পূর্ণ অর্থ বিদেশি অনুদান থেকে সংগ্রহের আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয়ের বড় অংশ রাখা হয়েছে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামত এবং পেশাগত সেবা খাতে।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক প্রশিক্ষণ

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে শিক্ষকতার জন্য প্রকৃত অর্থে প্রাক্‌-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। অথচ শিক্ষকতার মতো পেশায় প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা অর্জন ও মানসিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি।

এ ঘাটতি পূরণে যোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের উপযোগী করে তুলতে নতুন শিক্ষক-শিক্ষা মডেল চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে প্রাক্‌-চাকরিকালীন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাউশির কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন মডেল চালু করা হবে। পরে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ১০টি কোর্স, প্রশিক্ষণ পাবেন ২০ হাজার

শুধু নতুন শিক্ষকদের প্রস্তুত করাই নয়, কর্মরত শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পে গুরুত্ব পেয়েছে। এ জন্য ‘শিক্ষক পেশাগতীকরণ নির্দেশিকা’ (টিপিজি) এবং ‘শিক্ষক পেশাগত উন্নয়ন কাঠামো’ (টিপিডিএফ) প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া কর্মরত শিক্ষকদের অব্যাহত পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে বিদ্যমান ১০টি প্রশিক্ষণ কোর্স হালনাগাদ এবং নতুন করে আরও ১০টি কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা প্রশাসক, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের জন্যও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসক এবং দেড় হাজার প্রধান শিক্ষককে পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান দক্ষতা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে মাউশি।

অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রকল্প

মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ড. সরদার মো. কেরামত আলী বলেন, প্রকল্প প্রস্তাবটি বর্তমানে অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ফলে নতুন প্রশিক্ষণ মডেল কবে থেকে কার্যকর হবে এবং শিক্ষক নিয়োগে এর প্রভাব কী হবে, তা নির্ভর করছে প্রকল্পটির অনুমোদন ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

শেয়ার করুন :

Check Also

পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি

বিশেষ প্রতিনিধি- বাংলা টুডে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে …