ডেস্ক রিপোর্ট- বাংলা টুডে
গ্যাসের সংকটে বাড়তি দামের চাপে ভোক্তা, সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর নতুন দর
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির দাম এক ধাক্কায় কেজিতে ২১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়। আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। গত মাসে ১৩ টাকা কমানোর পর এবার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
গতকাল রোববার নতুন এ দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, নতুন দর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এখন প্রতি কেজি বেসরকারি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা, যা আগে ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বাড়তে শুরু করলে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হারে এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। ওই মাসের শুরুতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানোর পর ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমানো হয়েছিল। এরপর গত দুই মাস বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামার মধ্যেই চলতি মাসে আবার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি করা হলো।
এদিকে, নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বাজারে গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম বাড়ায় বাজারে সিলিন্ডারের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।
গ্যাসসংকটের কারণে অনেক পরিবার রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে সরবরাহের ঘাটতি, অন্যদিকে দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি—দুই দিক থেকেই চাপে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর গৃহস্থালি ব্যয় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বেসরকারি খাতের এলপিজির দাম বাড়লেও সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৮২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত অটো গ্যাসের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারের দাম ১১ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এর দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি উৎপাদনের প্রধান দুই উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এসব উপাদানের আন্তর্জাতিক বাজারদর নির্ধারণে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আরামকোর প্রকাশিত সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরামকোর প্রকাশিত সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। পাশাপাশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর চালানমূল্য এবং মাসজুড়ে ডলারের গড় বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে কমিশনের নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা না গেলে মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়।
BANGLA TODAY আজকের বাংলা