ডেস্ক রিপোর্ট- বাংলা টুডে
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে ভেকু নিয়ে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আরও ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে কারাগারে পাঠানো হলো।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তাঁরা হলেন—মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহ আলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুণ অর রশিদ জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতোয়ার রহমান ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ এমরান হোসাইন জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার শুনানি শেষে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০) নামের চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মধ্যরাতে ঢুকে বেঁধে ফেলা হয় নিরাপত্তাকর্মীদের
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে একদল ব্যক্তি হ্যামার, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ঢোকেন। তাঁরা সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দায়িত্বরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আবদুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখেন।
পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু ভেতরে ঢোকান। এরপর শুরু হয় একের পর এক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া ও মালামাল লুটের ঘটনা।
এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশে থাকা প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি আধাপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলেন। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এরপর পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি আধাপাকা ঘর ও এর আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এতে ক্ষতি হয় আরও প্রায় চার লাখ টাকা।
চিকিৎসাকেন্দ্রের একের পর এক স্থাপনায় হামলা
হামলাকারীরা পরে ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের আধাপাকা ঘরে ভাঙচুর চালান। সেখানে থাকা আসবাব ও চিকিৎসাসামগ্রীও নষ্ট করা হয়। এ ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায়ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে ক্ষতি হয়েছে আরও প্রায় ২০ লাখ টাকা।
সবশেষে আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরির পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এ অংশে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
লুট হয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ
শুধু ভাঙচুর নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল লুটের অভিযোগও রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, তিনটি স্টিলের আলমারি এবং বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যান।
লুট হওয়া এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতারের দাবি, হামলা ও লুটপাটে প্রতিষ্ঠানের এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন।
‘দুই শতাধিক ব্যক্তি হামলা চালায়’
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তাঁরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে প্রথমে ভাঙচুর শুরু করেন। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর মামলা হলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ধারাবাহিকভাবে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের আদেশে ইতিমধ্যে ১০ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ ছয় আসামিকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় আরও কেউ জড়িত কি না, হামলার নেপথ্যে কারা ছিলেন এবং লুট হওয়া মালামালের কতটা উদ্ধার হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
BANGLA TODAY আজকের বাংলা