নিজস্ব প্রতিবেদক-বাংলা টুডে
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট নবায়নের ঝুলে থাকা (পেন্ডিং) আবেদন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পাশাপাশি রুল জারি করে জানতে চাওয়া হয়েছে, প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।
আদালত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সচিব, পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসী কল্যাণসচিব, আইনসচিব এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে দেশের বিভিন্ন হাইকমিশন ও দূতাবাসে জমা পড়া নতুন পাসপোর্ট ও নবায়নের আবেদন দ্রুত পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ২১ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়েছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৯ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘প্রবাসীরা পাসপোর্ট নিয়ে মহাযন্ত্রণায়’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে তিন আইনজীবী রিট আবেদন করেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার।
শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের জানান, লাখ লাখ প্রবাসী তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট প্রদান ও নবায়নের আবেদন ঝুলে থাকায় অনেক প্রবাসী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন এবং নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আদালতের এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।





