বিশেষ প্রতিনিধি- সুবীর
চট্টগ্রামঃ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে এনে হত্যা করার ঘটনায় ১৩ বছর পর স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজউল ইসলাম ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. নেজাম উদ্দিন (৪৩) পটিয়া উপজেলার পূর্ব জিরি গ্রামের মৃত কবির আহাম্মদের ছেলে।
আদালত সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২১ জানুয়ারি পটিয়া উপজেলার মেহেরআটি গ্রামের মো. মহসিন চৌধুরীর মেয়ে শাহনাজ বেগমের সঙ্গে নেজাম উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শাহনাজকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। এক পর্যায়ে স্বামীর অবহেলা ও নির্যাতনের কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঘটনার সময় তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালের ১১ জুলাই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা বলে নেজাম উদ্দিন স্ত্রীকে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
দুই দিন পর, ১৩ জুলাই বিকেলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে শাহনাজের মরদেহ বাবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্বামী দাবি করেন, অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের সন্দেহ হলে শাহনাজের বড় ভাই আজগর আলী বাদী হয়ে নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন।





