বিশেষ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বাসিন্দা হেফাজত মোস্তাফার বিরুদ্ধে একাধিক নারীকে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পরে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বের সংসারের কথা গোপন করে নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং বিয়ের পর কিছুদিন সংসার করার পর মোহরানার অর্থ পরিশোধ না করেই বিচ্ছেদ ঘটান।
এমনই অভিযোগ করেছেন আনোয়ারার মেয়ে কলি আক্তার। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, হেফাজত মোস্তাফা নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে গত ১৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর প্রায় দেড় বছর তাঁরা সংসার করেন।
কলি আক্তারের অভিযোগ, পরবর্তীতে হেফাজত মোস্তাফা তাঁকে তালাক দিয়ে চলে যান। তবে কাবিননামায় উল্লেখ থাকা মোহরানার অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কলি আক্তারের আরও অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ বা ‘পাগল’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় এবং এর পরিণতিতে তাঁকে কারাগারেও থাকতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের সময় তাঁকে হেফাজত মোস্তাফার পূর্বের বৈবাহিক জীবন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানানো হয়নি। এ কারণে তিনি নিজেকে প্রতারণার শিকার বলে দাবি করছেন।
মা-বাবা হারানো কলি আক্তারের জীবনে স্বামীই ছিল একমাত্র আশ্রয়স্থল। ভালোবেসে বিয়ে করে নতুন সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন যে এভাবে ভেঙে যাবে, স্বামীর কাছ থেকেই এমন প্রতারণার শিকার হতে হবে—তা কখনো কল্পনাও করেননি কলি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্নে ফাটল ধরে। কলির অভিযোগ, একপর্যায়ে হেফাজত মোস্তাফা তাঁকে তালাক দিয়ে চলে যান। তাঁর দাবি, বিয়ের সময় নির্ধারিত মোহরানার অর্থও তিনি পাননি।
আজ মা-বাবাহারা সেই কলি আক্তার যেন সত্যিই আশ্রয়হীন। যে মানুষটিকে ভালোবেসে নিজের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ভেবেছিলেন, সেই স্বামীর কাছ থেকেই বিচ্ছেদ ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর তাঁর জীবন এখন অনিশ্চয়তায় ভরা।
এই বিষয়ে হেফাজত মোস্তাফার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
BANGLA TODAY আজকের বাংলা