বিশেষ প্রতিনিধি- সুবীর পাল
ওয়াসা মোড়ে মোটরসাইকেলসহ ১০০ ফুট টেনে নিল বাস, চালক-সহকারী গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম নগরের ওয়াসা মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত পুলিশ সদস্য আল আমিন মারা গেছেন। রোববার সকালে দুর্ঘটনার পর তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
আল আমিন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পিএমও শাখায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওয়াসা মোড়ে একটি তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন আল আমিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এ সময় তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে হেঁটে যেতে দেখে তাঁদের থামার সংকেত দেন পুলিশ সদস্যরা। তখন তাঁদের একজন দৌড়ে জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের মাঠের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন।
পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে ধরতে তল্লাশিচৌকির ইনচার্জ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিরণ মিয়া মসজিদের উত্তর গেটের দিকে যান। আর কনস্টেবল আল আমিন মোটরসাইকেল নিয়ে পশ্চিম গেটের দিকে এগিয়ে ওই ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করেন।
পুলিশের ভাষ্য, ধাওয়া দেওয়ার সময় লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস পেছন থেকে আল আমিনের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। বাসটি মোটরসাইকেলসহ তাঁকে প্রায় ১০০ ফুট দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় সহকর্মীরা আল আমিনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বাসটির চালক মো. মোশারফ (৩৮) ও সহকারী জয় দাশকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়েছে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান বলেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, নিহত পুলিশ সদস্যের লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
BANGLA TODAY আজকের বাংলা