বিশেষ প্রতিনিধি- সুবীর
কক্সবাজার এক্সপ্রেসে আতঙ্ক, একই দিনে দুই দফা পাথর নিক্ষেপ
চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ ছুটে এল পাথর। জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে থাকা এক যাত্রীর মাথায় আঘাত লেগে মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় মুখ। ট্রেনের ভেতর প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করেও রক্তপাত বন্ধ করা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ট্রেনের মাইকে ঘোষণা দিয়ে চিকিৎসকের সন্ধান করতে হয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। পরে এক জ্যেষ্ঠ সার্জনসহ কয়েকজন চিকিৎসক এগিয়ে এসে আহত যাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
শনিবার বিকেলে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেসে এ ঘটনা ঘটে। আহত যাত্রীর নাম শাহীন আহমদ (৩৯)। তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকার বাসিন্দা এবং উত্তরা আয়কর কার্যালয়ের প্রধান সহকারী।
জানা যায়, কক্সবাজার এক্সপ্রেস দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার রেলস্টেশন ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। বেলা সোয়া তিনটার দিকে ট্রেনটি লোহাগাড়া এলাকায় পৌঁছালে বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর এসে শাহীন আহমদের মাথায় আঘাত করে। তখন তিনি বগির জানালা সামান্য খুলে বাইরে তাকিয়ে ছিলেন।
পাথরের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। ট্রেনে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনোভাবেই রক্তপাত বন্ধ হচ্ছিল না। একপর্যায়ে ট্রেনের মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের মধ্যে কোনো চিকিৎসক আছেন কি না, জানতে চাওয়া হয়।
রেলওয়ের সেই ঘোষণায় সাড়া দিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ সার্জনসহ কয়েকজন চিকিৎসক আহত যাত্রীর কাছে যান। তাঁকে পরীক্ষা করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।
এরপর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী স্টেশনে ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা করে। সেখানে সহকর্মী আয়কর আইনজীবী নজরুল ইসলামের সহায়তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে যান শাহীন। হাসপাতালে তাঁর মাথায় কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়।
শাহীন আহমদ বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে মাদকবিরোধী বার্তা নিয়ে আয়োজিত একটি ম্যারাথন কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি ও তাঁর সহকর্মী কক্সবাজার গিয়েছিলেন। কর্মসূচি শেষে তাঁরা ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে ফিরছিলেন। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর জানালা দিয়ে বাইরে তাকানোর সময় হঠাৎ একটি পাথর এসে তাঁর মাথায় লাগে।
তিনি জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করেন। ঢাকায় দ্রুত ফিরতে সেদিনই বিমানে করে রাজধানীতে পৌঁছান তিনি।
এদিকে, একই ট্রেনে এর আগে রামু-ইসলামাবাদ এলাকায়ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বেলা দুইটার দিকে ছোড়া পাথরের আঘাতে ট্রেনের একটি বগির জানালার কাচ ভেঙে যায়। তবে ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি।

পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবদুস সালাম ভূঁইয়া বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে শাহীন আহমদ নামের এক যাত্রী আহত হয়েছেন। ট্রেনে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নতুন নয়। এতে যাত্রীদের জীবন যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি ট্রেনের জানালা ও অন্যান্য সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে জানালার পাশে বসা যাত্রীরা এ ধরনের ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। পাথর নিক্ষেপ বন্ধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
BANGLA TODAY আজকের বাংলা